খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গোনালী গ্রামে শিশুদের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্র ও রডের হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে গোনালী বেলতলা বাজার ও উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মোঃ নজরুল ইসলাম সরদার (৬৩), তাঁর স্ত্রী মোসাঃ সাজেদা বেগম (৫০) এবং ছেলে মোঃ আলামিন সরদার (৩৮)। গুরুতর আহত আলামিন সরদারকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে গোনালী নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির সরদার (০৭) এবং তার সহপাঠী মেহরাব সরদার (০৮) মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেলতলা বাজারে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি বাড়িতে জানালে দুপুর ২টার দিকে আবিরের দাদা নজরুল ইসলাম প্রতিপক্ষ বাবু সরদারের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি শান্তভাবে জানানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কথা বলার একপর্যায়ে বিবাদী ইকরামুল সরদার (২৫), বাবু সরদার (৬০), রাজু সরদার (৩৫), কারিমুল সরদার (৪০), হাসিনা বেগম (৫৫), অন্তরা বেগম (৩২) ও আরিফা বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় ধারালো দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে চড়াও হন। নজরুল ইসলাম প্রাণভয়ে নিজ বাড়িতে পালিয়ে এলে বিবাদীরা বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
নজরুল ইসলামের ছেলে আলামিন সরদার গালাগালি করতে নিষেধ করলে ৩ নম্বর বিবাদী রাজু সরদারের হুকুমে ১ নম্বর বিবাদী ইকরামুল কোপ মারেন। আলামিন নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও দা-এর কোপ তাঁর মাথার বাম পাশে লেগে রক্তাক্ত জখম হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অন্য বিবাদীরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আলামিন সহ তাঁর বাবা-মাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় আলামিনের কাছ থেকে একটি ব্যবহৃত স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয় আনার শেখ, মঞ্জু সরদারসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
“গোনালী গ্রামের মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিশুদের বিরোধ থেকে ঘটনাটির সূত্রপাত হলেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখমীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”