একটি দেশের গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী, তা পরিমাপ করা হয় সেই দেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন—তার ওপর ভিত্তি করে। গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। যেখানে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনা করে, সেখানে গণমাধ্যম কাজ করে জনগণের দর্পণ হিসেবে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা উদযাপন এবং বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন করার একটি দিন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে:
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যম এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। একদিকে যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কঠিন আইন সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করছে, অন্যদিকে ‘ফেক নিউজ’ বা অপপ্রচারের ভিড়ে সত্য আজ কোণঠাসা। এছাড়া অনলাইন নজরদারি এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাব সাংবাদিকতাকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পরিণত করেছে।
একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ সমাজ গড়তে হলে ভয়হীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকরা যখন নির্ভয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখনই সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তাই আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত— ১. সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২. তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। ৩. অপপ্রচার রোধে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে সমর্থন জানানো।
গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন হবে, সমাজ তত বেশি সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ হবে। ‘মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ সফল হোক তখনই, যখন পৃথিবীর প্রতিটি কোণ থেকে সত্য বলার সাহসী কণ্ঠগুলো আর স্তব্ধ হবে না।
সবাইকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের শুভেচ্ছা!