সিরাজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জিয়া পুকুরের(টুপামারী বহুমুখী কৃষি কমপ্লেক্স) গাছ অবৈধভাবে কর্তনের অভিযোগ উঠেছে উলিপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের অবগত না করেই পুকুরের সাতটি গাছ কর্তন করেন।
জানা গেছে, জিয়া পুকুরটি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)’র আওতাধীন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির অধীনে পরিচালিত সমবায়ীদের সম্পত্তি। পুকুরটি ব্যবস্থাপনায় উলিপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মো. গোলাম মোস্তফা স্থানীয় নেতা-কর্মীর সহায়তায় ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে একাধিকবার উলিপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালন পরবর্তী ক্ষমতার অপব্যবহার করে হেন কোন অবৈধ কাজ নেই,যা তিনি করেননি। সভাপতি হয়ে নিজে ও ছেলের নামে ঋণ গ্রহণ, ভুয়া বিল-ভাউচার করে অর্থ লোপাট, পুকুর ব্যবস্থাপনার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়ে পুকুরে ৩-৪ জন প্রহরী নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে জিয়া পুকুরের সাতটি গাছ কর্তন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, গাছ কাটার আগে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বন বিভাগ কিংবা সমবায় সমিতির অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা সম্মতি নেওয়া হয়নি।
গাছ কাটার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গাছ কর্তনের সময় বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বর্তমানে উলিপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
খবর পাওয়ার পর বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে তিনি দ্রুত জিয়া পুকুর এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে গাছ কর্তনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কর্তন করা গাছের কয়েকটি গুঁড়ি দুইটি অটোরিকশাভ্যানে করে পাঁচপীর বাজারের একটি করাতকলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার উদ্যোগে করাতকল থেকে গাছের গুঁড়িগুলো জিয়া পুকুর এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরবর্তীতে মোট ৪৯টি গাছের গুঁড়ি জিয়া পুকুর ক্যাম্পাসে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত স্থানীয় একটি নিউজ ইতোমধ্যে আলোচিত হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সমবায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হলে, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উলিপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সদস্যদের নিয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জিয়া পুকুরের গাছ কর্তনের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ও সমবায় ব্যবস্থাপনার আওতাধীন পুকুরের গাছ কর্তনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বা সমবায় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে অভিযুক্ত মো. গোলাম মোস্তফার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রেজুলেশন করে গাছ কেঁটেছি।